আমেরিকায় পড়তে গেলে সেখানকার সংস্কৃতির যে ৭টি ব্যাপার অবশ্যই খেয়াল রাখবেন

আমেরিকায় পড়তে গেলে সেখানকার সংস্কৃতির যে ৭টি ব্যাপার অবশ্যই খেয়াল রাখবেন
রাগিব হাসান

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এক যান্ত্রিক পাখিতে চড়ে ১৪ বছর আগে আমি আমেরিকাতে পিএইচডি করতে এসেছিলাম। আমার জন্য সেটা বহুদিক থেকেই নতুন ব্যাপার--জীবনে প্রথম প্লেনে চড়া, প্রথমবারের মতো মহাসাগর পেরিয়ে অন্য মহাদেশে যাওয়া। এখন শিক্ষকতার কারণে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আমিই আমার গ্রুপে নিয়ে আসি, আর প্রচুর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ আছে। দেশের ছাড়াও অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের পড়াই ক্লাসে। ভিনদেশ থেকে আমেরিকায় পড়তে আসা এই শিক্ষার্থীদের জন্য আমেরিকার সংস্কৃতি, রীতিনীতি এসব অনেক ক্ষেত্রেই পুরোপুরি নতুন। চিরচেনা সবকিছুর চাইতে আলাদা এই পরিবেশে খাপ খাওয়াতে গিয়ে অনেকেই বিশাল সমস্যায় পড়েন। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রথমে নিজে দেখে এবং পরে আমার শিক্ষার্থীদের দেখে এই কালচারাল শকগুলোকে ভালো করে দেখা ও জানা হয়েছে। এই লেখাটা আমেরিকায় আসা শিক্ষার্থীদের জন্য-- কীভাবে এখানকার জীবনে খাপ খাওয়াবেন, তা নিয়ে। এ নিয়ে মোটামুটি একটা বই লেখা সম্ভব, এখানে তবুও ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

১) ধন্যবাদের সংস্কৃতি
মার্কিনীরা খুব মিশুক জাতি। পথে ঘাটে অপরিচিত কারো চোখে চোখ পড়লে হাসি দিয়ে বলবে 'সুপ্রভাত, কেমন আছেন? ভালো তো?' মনে করুন লিফটে উঠলেন, আপনার পরে যিনি ঢুকছেন তিনি আপনাকে দেখে এমন কুশলাদি ধরণের কথা বলবেন, আবার বেরোবার সময় 'হ্যাভ আ নাইস ডে' বলে বেরোবে। এছাড়াও সবকিছুতেই ধন্যবাদ দেয়ার চল। এই ব্যাপারগুলো আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে খুব বেশি নেই। ফলে প্রথম প্রথম অবাক হতে পারেন যে অপরিচিত কেউ হাত নাড়ছে কেন, অথবা আগ বাড়িয়ে কথা বলতে আসছে কেন! আবার দোকানদার আপনার পয়সা দিয়ে কেনা জিনিস হাতে দিলে আপনি কেন থ্যাংক ইউ বলবেন, সেটা নিয়েও খাবি খেতে পারেন। সহজ সমাধান, প্রতিটি বাক্যেই প্লিজ বলার অভ্যাস করুন, আর কেউ কিছু দিলে, জানালে, তাকে অকুণ্ঠ্য ধন্যবাদ দিতে থাকুন থ্যাংক ইউ বলে। আর চলার পথে কারো চোখে চোখ পড়লে হাই বলার অভ্যাস করুন। কেউ এটা বলার মানে আবার ধরে নেবেন না সে খাতির জমাতে চায়। হোমওয়ার্ক বা পরীক্ষার চাপে ভর্তা হয়ে গেলেও গোমড়া মুখে প্যাঁচার মতো চেহারা করে না থেকে হাসিমুখ করে থাকার অভ্যাস করুন।



২) প্যাঁচানো বাদ দেয়া
কথাবার্তা সরাসরি বলুন ও লিখুন। ছোটবেলায় পিতার কাছে টাকা চাহিয়া পত্র লেখার যে ভনিতা অভ্যাস হয়ে গেছে, সে ধরণের অভ্যাসগুলো বাদ দেন। গেট টু দ্য পয়েন্ট। অতি বিনয় অতি ভনিতা করতে থাকলে মূল বিষয় বাদ পড়ে যায়। তার উপর জিআরই, টোফেল থেকে যেসব দুর্বোধ্য শব্দ শিখেছিলেন, সেগুলা দ্রুত ভুলে যান, ঐসব আমেরিকাতে কেউ কথ্য ভাষায় ব্যবহার করে না। ছোট ছোট বাক্য ব্যবহার করুন, কম্পাউন্ড বা কমপ্লেক্স বাক্য ব্যবহার করা কথায় বা লেখায় দুই ক্ষেত্রেই বাদ দেন।



৩) দরজা ধরে রাখার ভদ্রতা
দরজা ধরে রাখার ব্যাপারে আমেরিকার লোকজনের সৌজন্য রীতিমতো লিজেন্ডারি। ব্যাখ্যা করে বলি, ধরা যাক আপনি কোনো দোকানের দরজা খুলে ঢুকবেন। আপনার পেছনে একজন আসছে। এখানকার রীতি হলো, ভদ্রতা করে দরজাটা পেছনের লোকের জন্য খুলে ধরে রাখা। বড় শহরে হয়তো কেউ এটা কেয়ার করে না, কিন্তু অধিকাংশ কলেজ টাউন মানে ছোট শহরে দরজা ধরে রাখার ভদ্রতাটা সবাই আশা করে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আপনি নিজেই চাপে পড়বেন, আপনি হয়তো ১০০ ফুট দূরে, কিন্তু আপনার সামনের ভদ্রলোক দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে, আপনাকে তাই হন্তদন্ত হয়ে হবে যেতে। আর এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে ভুলবেন না।



৪) চোখে চোখ রাখা
কথা বলার সময়ে চোখে চোখ রেখে কথা বলাটা বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে একটা বিশাল ট্যাবু। 'কত্ত বড় বেয়াদব, চোখ তুলে কথা বলে' এই ব্যাপারটা ছোটবেলা থেকে আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় বা ঢুকে যায়। ফলে মাথা নিচু করে মাটির দিকে তাকিয়ে টিচারের বা বসের সঙ্গে কথা বলাটাই বাংলাদেশের রীতি। আমেরিকায় ব্যাপারটা পুরোপুরি উল্টা। কারো সঙ্গে কথা বলার সময় যদি চোখে চোখ রেখে কথা না বলেন, সবাই সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাবে, ধরে নেবে আপনার মাথায় কোনো সমস্যা আছে বা আপনি চরম লাজুক অসামাজিক রোগী। কাজেই চোখে চোখ রেখে মাথা উঁচু করে কথা বলুন, ওখানে সেটা বেয়াদবি ধরবে না কেউ। তবে এর আবার উল্টো দিকও আছে, কারো দিকে অদরকারে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকাটা সন্দেহজনক, সেটা ভুলেও করবেন না।



৫) মিশুক কাউকে ভুল বোঝা
এই পয়েন্টটা বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমেরিকায় বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যত্র কেউ হাসিমুখে আপনার সঙ্গে কথা বলছে বা হাই বলছে তার মানে কিন্তু এই না যে সে আপনার ব্যাপারে আগ্রহী। কাজেই কেউ আপনার সঙ্গে ভালো করে মিশলে তার ব্যাপারে রোমান্টিক চিন্তা শুরু করে দিলে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করলে বিশাল সমস্যায় পড়বেন। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের ব্যাপারে ছাড় দেয়া হবে না, ভুল বুঝে অফেন্সিভ উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেললে জেলে যেতে হবে নিশ্চিত!



৬) স্টুডেন্টের সঙ্গে কখনো প্রেম নয়
বাংলাদেশে টিউশনির শিক্ষকেরা অহরহ ছাত্রীদের সাথে রোমান্টিক সম্পর্কে জড়ান, এই ব্যাপারটাকে ডাল ভাত ধরা হয়। হুমায়ুন আহমেদের গল্পে প্রায়ই গোবেচারা গৃহশিক্ষকের কিংবা কলেজের শিক্ষকদের দেখা যায় ছাত্রীর প্রেমে পড়তে। যারা উচ্চশিক্ষার্থে আমেরিকায় আসছেন বা আসবেন, তারা অনেকেই টিচিং অ্যাসিসটেন্ট হিসাবে আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের ল্যাব কিংবা ক্লাসে পড়াবেন। সাবধান, ভুলেও দেশের মতো করে ক্লাসের শিক্ষার্থীদের দিকে রোমান্টিক নজর দেবেন না। শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আগ্রহ আসলেও না। আমেরিকার শিক্ষাক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা প্রচন্ড রকমের আন-এথিকাল বা অনৈতিক ধরা হয়, এবং এটাকে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট ধরা হয়, এমনকি যদি দুই পক্ষের সম্মতি থাকেও! যতদিন পর্যন্ত আপনি কারো শিক্ষক থাকবেন, তার সঙ্গে এমন কোনো সম্পর্কে যাওয়া ওখানে বেআইনি। আবার কোনো কোনো স্টেটে এটা কঠিন রকমের অপরাধ-- যেমন অ্যালাবামা রাজ্যে ১৯ বছরের কমবয়সী কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে রোমান্টিক বা অন্য সম্পর্ক বেশিদূর গড়ালে দীর্ঘ মেয়াদী জেলের সুব্যবস্থা আছে। কাজেই টিচিং অ্যাসিসটেন্ট হিসাবে আপনার কাজ যেন কেবলই টিচিং হয়, সেটা খেয়াল রাখুন।



৭) এথিক্স
এথিক্স ব্যাপারটা আসলে কেবল বাংলাদেশের না, আমেরিকার বাইরে বিশেষ করে এশিয়ার প্রায় সব দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি করে। আমাদের দেশে কোর্সওয়ার্কে অ্যাসাইনমেন্ট কপি করা, একজনে লিখলে সেটাকে বাকি সবাই চোথা মেরে দেয়া, অথবা বই থেকে হুবুহু টুকে, ইন্টারনেট থেকে কপি-পেস্ট করে দেয়া, পরীক্ষার সময় পাশের জনের খাতায় উঁকি দেয়া, এগুলো যে চরম গর্হিত কাজ, সেটা খুব বেশি কেউ মনে হয় ভাবে না। সমস্যাটা হলো আমেরিকার শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ করে ইউনিভার্সিটিগুলাতে এসবের ক্ষেত্রে প্রচন্ড কড়া অনার কোড আছে। নকল করে এসাইনমেন্ট জমা দিলে ধরা খাবেন নিশ্চিত, কারণ নকল ধরার সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় (যেমন Turnitin)। অধিকাংশ ইউনিভার্সিটিতে প্রথমবার ধরা খেলে ঐ অ্যাসাইনমেন্টে শূণ্য পাবেন, ওয়ার্নিং দেয়ার পরে আবারও যদি ধরা পড়েন একই কোর্সে, তাহলে কোর্সে সরাসরি এফ গ্রেড তো পাবেনই, তার উপরে এটা ডিনের কাছে রিপোর্ট হবে, বহিষ্কার হয়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এমনকি কোনো জায়গা থেকে কিছু উদ্ধৃতি দিলে সূত্র উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, আর কোন অংশ উদ্ধৃতি সেটা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। যেকোনো কিছু ইন্টারনেট থেকে বা বই থেকে কপি না করে নিজের ভাষায় লিখতে হবে। আর যেসব অ্যাসাইনমেন্টে একা কাজ করার কথা, সেখানে নিজের হোমওয়ার্ক নিজেকেই করতে হবে।

যে সুরাটি পাঠ করলে মহান আল্লাহ মনের বাসনা পূর্ণ করে থাকেন!

যে সুরাটি পাঠ করলে মহান আল্লাহ মনের বাসনা পূর্ণ করে থাকেন!
অপর এক হাদীসে এসেছে, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিল-ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ)! কুরআন শরীফের কোন সূরাটি সর্বশ্রেষ্ঠ মহান আল্লাহর কাছে একজন মুসলমানের সবথেকে বড় চাওয়ার হলো তিনি যেন তার দোয়া কবুল করেন। 

মানুষ মনে মনে মহান আল্লাহর নিকট অনেক দোয়া পাঠ করে থাকেন। কিন্তু অনেকই জানেন না কি ভাবে দোয়া করিলে আল্লাহর তা’য়ালার নিকট সেই দোয়াটি অধিক গ্রহণযোগ্য হবে।


এ বিষয়ে হযরত আবু সোলায়মান দারানী বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোন প্রার্থনা করতে চায়, তার উচিত, প্রথম দরূদ পাঠ করা এবং দরূদ দ্বারা দোয়া শেষ করা কেননা, আল্লাহ উভয় দরূদ কবুল করে থাকেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা আল্লাহর নিকট চাও তখন আমার প্রতি দরূদ পাঠ কর। 

আল্লাহর শান এরূপ নয় যে, কেউ তার কাছে দুইটি জিনিস চাইলে একটি পূর্ণ করবেন এবং অপরটি করবেন না। সূরা এখলাছ তিনবার পাঠ করে আল্লাহ্’র দরবারে দোয়া করলে আল্লাহ্ নেক আশা পূর্ন করেন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, [সুরা ইখলাস: ১]

اللَّهُ الصَّمَدُ
আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, [সুরা ইখলাস: ২]

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি [সুরা ইখলাস: ৩]

وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। [সুরা ইখলাস: ৪]

অপর এক হাদীসে এসেছে, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিল-ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ)! কুরআন শরীফের কোন সূরাটি সর্বশ্রেষ্ঠ? মহানবী (সাঃ) বলিলেন, “সূরা এখলাস”। (মিশকাত)

১০৫ বছর বয়সী ডাক্তারের কাছ থেকে জানুন তার দীর্ঘায়ুর রহস্য!

১০৫ বছর বয়সী ডাক্তারের কাছ থেকে জানুন তার দীর্ঘায়ুর রহস্য!
১৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন ১০৫ বছর বয়সী ডঃ শিগেআকি হিনোহারা। তার এই দীর্ঘ জীবনের রহস্য কী? অবসর না নেওয়া!

দীর্ঘায়ুর দিক দিয়ে জাপানকে বিশ্বে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে যার গবেষণা বিশাল ভূমিকা রেখেছে, তিনি হলেন ডঃ হিনোহারা। মৃত্যুর কিছুদিন আগে পর্যন্তও তিনি কাজ করে গেছেন, রোগী দেখেছেন, ১৮ ঘন্টা কাজ করেছেন প্রতিদিন এবং আগামী ৫ বছর পর্যন্ত রোগী দেখার পরিকল্পনা করে গেছেন। তিনি অবসর নেওয়াতে বিশ্বাসী ছিলেন না। কাজে বিশ্বাসী ছিলেন। জাপানিজ টাইমসে তার শিষ্য জুডিট কাওয়াগুচিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পরামর্শ দেন, “অবসরে যাবেন না। আর গেলেও ৬৫ বছর বয়সের অনেক পরে যান।”

কাওয়াগুচি জানান, ডঃ হিনোহারার এই দীর্ঘায়ুর রহস্য হলো সমাজে অবদান রাখা এবং মানুষকে সাহায্য করতে পারা। ডঃ হিনোহারা মানুষকে সাহায্য করার ব্যাপারে খুবই উৎসাহী ছিলেন। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতেন তিনি অন্যদের উপকারে দারুণ কিছু করার ইচ্ছে নিয়ে।

সাক্ষাৎকারে হিনোহারা বলেন, যখন জাপানের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৬৮ বছর, তখনই তাদের অবসরে যাবার বয়স ছিল ৬৫ বছর। ২০১৫ সাল নাগাদ জাপানের মানুষের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৮৪ বছরে। সেক্ষেত্রে ৬৫ বছর বয়সে অবসরে যাবার আসলে দরকার নেই। 

মার্চ মাসে খাওয়াদাওয়ার ক্ষমতা হারান হিনোহারা। এ সময়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু টিউবের মাধ্যমে খেতে অস্বীকৃতি জানান তিনি, এ কারণে আবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। সেখানেই কয়েক মাস পর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তিনি মনে করতেন, হাসপাতালে তাদেরকেই দীর্ঘ সময় চিকিৎসা দেওয়া উচিৎ যাদের বাঁচার আশা নেই।

১৯৫০ এর দশকে হিনোহারা “হিউম্যান ড্রাই-ডক” নামের বার্ষিক চিকিৎসা সেবার এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন যা এদেশের মানুষের আয়ু বাড়তে সাহায্য করে। বর্তমানে জাপানের নারীরা ৮৭ বছর এবং পুরুষেরা ৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচার আশা করতে পারে। স্ট্রোক এবং হৃদরোগের মাঝে জীবনযাত্রার সংযোগ খুঁজে পেতেও তিনি সাহায্য করেন। তিনি মনে করতেন, সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য একজন রোগীকে জানা খুবই জরুরী। 

হ্যাঁ, দীর্ঘ আয়ু পেতে হলে কাজ করে যেতে হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি আরো কিছু কাজ আপনাকে সাহায্য করবে এক্ষেত্রে, জানান হিনোহারা। এগুলো হলো-

১) আনন্দে থাকুন

খুব বেশি নিয়ম মেনে চলতে হবে না, জীবনকে উপভোগ করুন। অনেকেই খাওয়া, ঘুম নিয়ে খুব চিন্তিত থাকেন। এসব নিয়ে বেশি চিন্তা করতে তিনি মানা করেন। 

২) ওজন বেশি বাড়তে দেবেন না

হিনোহারা নিজে খুব সাধারণ খাবার খেতেন। ওজন সবসময় ১৩০ পাউন্ডে স্থির রাখার চেষ্টা করতেন। তার ব্রেকফাস্ট ছিল কফি, এক গ্লাস দুধ এবং এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েলের সাথে একটু অরেঞ্জ জুস। তার আর্টারি এবং ত্বক সুস্থ রাখে অলিভ অয়েল- এমনটা মনে করতেন তিনি। লাঞ্চে খেতেন কিছু কুকি এবং দুধ। কাজের চাপ থাকলে লাঞ্চ বাদই দিতেন কখনো কখনী। আর ডিনারে খেতেন সবজি, ভাত ও মাছ। সপ্তাহে দুই বার খেতেন চর্বি ছাড়া মাংস। 

৩) সবসময় ডাক্তারের কথা শুনবেন না

ডাক্তাররাও সব সময়ে সব রোগের চিকিৎসা করতে পারেন না। বিশেষ করে সার্জারির ব্যাপারে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে বলেন। “কেন সার্জারি করে অযথা কষ্ট বাড়াবেন?” বলেন তিনি। 

৪) সঙ্গীত এবং পোষা প্রাণী আপনার জন্য ভালো

“সঙ্গীত এবং পোষা প্রাণীর দেওয়া থেরাপি যে কত ভালো কাজ করতে পারে তা অনেক ডাক্তাররা কল্পনাও করতে পারেন না,“ বলেন হিনোহারা। 

৫) কষ্ট কমায় আনন্দ

“ব্যথা বা কষ্ট খুবই রহস্যময়, এবং জীবন উপভোগ করাটা হলো কষ্টকে ভুলে থাকার সবচাইতে ভালো উপায়”। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি শিশুর যদি দাঁতে ব্যথা হয়, তাকে নিয়ে খেলা শুরু করলে সে দ্রুতই ব্যথার কথা ভুলে যায়। এ ব্যাপারটা হাসপাতালগুলোর ব্যবহার করা দরকার। 

৬) সিঁড়ি ভাঙ্গুন এবং নিজের জিনিস নিজে বহন করুন

শারীরিক শ্রমের কোনো বিকল্প নেই। হিনোহারা সবসময় দুইটি করে সিঁড়ি ভাংতেন যাতে তার পেশীগুলো সক্রিয় থাকে। একটি লাঠির সাহায্যে তিনি দিনে ২ হাজার বা তারও বেশি কদম হাঁটতেন।

সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

ইস যদি মন্ত্রী-এমপি হইতাম!

পীর হাবিবুর রহমান

১. নির্বাচনী হলফনামায় পাঁচ বছরের মন্ত্রী-এমপিরা সম্পদের যে বিবরণ দিয়েছেন, তা দেখে বিদ্রূপ করে এখন অনেকেই বলছেন, ইস যদি মন্ত্রী-এমপি হইতাম, পাঁচ বছরে এমন কামাই করতাম চৌদ্দপুরুষ বসে বসে রাজার মতো খেত।

এ লেখাটি যখন লিখছি তখন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন শেষ করেছেন। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের ওপর দেশবরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আমির হোসেন আমুর প্রতিক্রিয়া শেষ হয়েছে।

২. কয়েক দিন ধরে উত্তর-পূর্বের সীমান্ত শহর সুরমা-হাওর বিধৌত বাউল গানের তীর্থভূমি সুনামগঞ্জ শহরে রয়েছি। সুনামগঞ্জের বাড়িতে অনেকেই খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য এবং নানা মহলের প্রতিক্রিয়া টেলিভিশনে আমার সঙ্গে দেখেছেন। কয়েক দিন ধরে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের বিবরণী পত্রপত্রিকায় আসায় মফস্বল শহরের রাজনৈতিক সচেতন মানুষের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে হাট-বাজারে, পথে-ঘাটে, চায়ের স্টলের আড্ডায়। বাসাবাড়ির বৈঠকখানায় বিরোধী দলের সর্বশেষ অবরোধ কর্মসূচি এসব আলোচনায় কোনো ঠাঁই পায়নি। আলোচনা থেকে তলিয়ে গেছে সিএমএইচে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের ভর্তি ও জাতীয় পার্টির ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইস্যুটি। মজলিসি আড্ডায়, চায়ের টেবিলের আলোচনায় ঝড় তুলেছে মন্ত্রী-এমপিদের পাঁচ বছরে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের পর পাকিস্তান পার্লামেন্টে গৃহীত নিন্দা প্রস্তাব। সেই সঙ্গে প্রহসনের নির্বাচনের অতীত ইতিহাসকে হার মানিয়ে নজিরবিহীন রেকর্ড গড়ার ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন। এরই মধ্যে উঁকি দিচ্ছে

৫ জানুয়ারির পর নাকি সরকার বিরোধী দলের আন্দোলন ঠেকাতে মার্চ-এপ্রিলে উপজেলা নির্বাচন দিতে যাচ্ছে_ এমন একটি খবর। অনেকে উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। সুনামগঞ্জ বিএনপি ত্রিধারায় বিভক্ত। ফটোসেশনের আন্দোলন চলছে এখানে। কর্মসূচিতে তিন গ্রুপেই নেতা-কর্মীরা নামছেন। সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারায় শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি পাশাপাশিই হাঁটছে। রাজনৈতিক সংঘাত এখানে নেই। কিছু কিছু সন্ত্রাসীর আর কিছু সরকারি ছায়ায় লুটেরা নাম উচ্চারিত হচ্ছে মানুষের মুখে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইয়ামিন চৌধুরীকে নিয়ে শহরজুড়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও পুলিশ সুপার নজরুল হোসেনের ব্যাপারে নাগরিক মনোভাব ইতিবাচক। যাক এ প্রসঙ্গ আলাদা।

৩. বর্ষায় সুনামগঞ্জ যৌবন ফিরে পায়। শহরের চারদিকে অথৈ জলরাশি, আফালের ধাপাধাপি আর সুরমার উত্তাল সে াত দেখা যায়। এখন শীতে মরা কঙ্কাল। হাওর শুকিয়ে মাঠ। হাওরগুলোয় মাছ ধরার মৌসুম শুরু হয়েছে। শহরের পাড়ায় পড়ায় সকাল-সন্ধ্যা হরেকরকম তাজা মাছ, টাটকা সবজির ঢালা নিয়ে বসেছে বিক্রেতারা। দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। পৌর মেয়র আইয়ূব বখত জগলুল ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। সড়কগুলো সড়ক দুর্ঘটনায় অকালমৃত পৌর মেয়র মমিনুল মউজদীনের পর এবারের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। সড়কগুলো বড়সড় হচ্ছে। সংস্কার প্রশ্নে কিছু কিছু সাহসী সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন। উকিলপাড়াসংলগ্ন সুরমাপাড়ে মানুষের সান্ধ্যকালীন বিনোদনে রিভারভিউ মিনি পার্ক করেছেন। শানে বাঁধা দীর্ঘ ঘাট শহরবাসীর জন্য বসার স্থায়ী চেয়ার, আলোকসজ্জা প্রশংসিত। জায়গা পাননি বলে শহরবাসীর প্রত্যাশিত অডিটরিয়াম এখনো করতে পারেননি। আরপিননগর ঈদগাহ ইসলামী স্থাপত্যশৈলীতে নতুন রূপে নির্মিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের দুটিতেই আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং সদরে জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনএফের প্রার্থী থাকলেও তেমন প্রচারণায় নেই আওয়ামী লীগের মুহিবুর রহমান মানিক। তবে সুনামগঞ্জ-১ এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনে নৌকা এখন ডুবুডুবু করছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে অবতীর্ণ দুই প্রার্থী ফুটবল নিয়ে ভোটযুদ্ধ জমিয়ে দিয়েছেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনে পাঁচ বছরে দুর্নীতির বরপুত্র বলে আলোচিত মোয়াজ্জেম হোসেন রতন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ রফিকুল হকের সঙ্গে। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগে প্রার্থী এম এ মান্নানের ঘাম ঝরাচ্ছেন নিজ দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি মরহুম আবদুস সামাদ আজাদপুত্র আজিজুস সামাদ ডন।

৪. দেখার হাওরের বড়দৈ বিলে এক রাত ছিলাম। শহরের একঝাঁক দলনিরপেক্ষ তরুণ রাজনীতিক সুবিধাভোগীদের থাবা থেকে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে বড়দৈ বিলটি ইজারা নিয়ে আছেন দীর্ঘ দিন থেকে। এই তরুণদের মধ্যে সৈয়দ মনোয়ার, মোজ্জামেল হক মুনিম, হাজী হেলাল, সালাদীনরা পরিবেশ বান্ধব-বান্ধবী নন আশপাশের গ্রামবাসীদেরও সুখী রেখে এই বিলে মাছ চাষ ও আহরণ করেন। সৈয়দ মনোয়ারের রক্ত বিলের নেশা।

৫. যাক, যেখানেই আড্ডায় গেছি, মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদ বৃদ্ধির অবিশ্বাস্য খতিয়ান দেখে সবাই বলাবলি করছেন, এসব লোক রাজনীতিতে এসে আমাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে, মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করে শেষ তলানিতে নিয়ে গেছেন। বিদ্রূপ, ঠাট্টা, রসিকতায় অনেকেই বলছেন, ইস, একবার মন্ত্রী-এমপি হলে কত বিত্তবৈভব আর বিলাসিতার জীবনই না পাওয়া যায়। ২০০১ সালের ক্ষমতায় আসা বিএনপিকে দুর্নীতির বরপুত্ররা টাইটানিকের মতো ডুবিয়েছিল। জনবিচ্ছিন্ন করেছিল। এবার সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে পাঁচ বছরে তাদের বিত্ত-বেসাত আর অর্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার চিত্র দেখে রাগে-ক্ষোভে মানুষের বলাটাই স্বাভাবিক, এই তথ্যের বেনামি আড়ালে কী না রয়েছে? নিজেরা যা স্বীকার করেছেন, তা সন্দেহজনকই নয়, প্রশ্নবিদ্ধও। প্রশ্ন আসতেই পারে শাসক জোটের প্রতি, এই কি তবে দিন বদলের পরিণতি?

পাঁচ বছরে সম্পদের পরিমাণ কারও কারও বেড়েছে এক শ গুণ! পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান পাঁচ বছরে ২০ একর জমি প্রায় ৩ হাজার একরে নিয়ে গেছেন। বার্ষিক আয় বাড়িয়েছেন ৭৮ গুণ। পাঁচ বছর আগে যার ব্যাংকে ছিল ৮৩ হাজার ১১২ টাকা, পাঁচ বছরে এত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের খরচের পর জমা আছে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮২ টাকা। পাঁচ বছর আগে পূর্ত প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানের আয় ছিল ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা, নির্ভরশীলদের কোনো আয়ই ছিল না। পাঁচ বছর পর তিনি ও তার স্ত্রী এবং অন্য নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় হয়ে গেছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। পাঁচ বছর আগে তার সম্পদ ছিল ১০ লাখ টাকার। পাঁচ বছরে তা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি টাকায়।

নষ্ট কমিউনিস্ট মান্নান খানের যদি এ অবস্থা হয়, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের মতো হাফ মন্ত্রীর যদি এত বিত্তবৈভব হয় তখন বাংলাদেশের কারাগারে বন্দী গ্রামের সিঁদেল চোর থেকে রাজধানীর গ্রিল কাটা ডাকাত কিংবা মহল্লার চাঁদাবাজরা আফসোস করে বলতেই পারে- যদি মন্ত্রী-এমপি হতাম, শুধু ক্ষমতাই নয়, পুলিশের স্যালুটই নয়, দামি কাপড়চোপড়ই নয়, বিলাসী জীবনযাপনই নয়, আরাম-আয়েশে বাকিটা জীবন কাটিয়ে দিতাম। এই মান্নান খান সেদিন মহান সংসদে দাঁড়িয়ে যখন বড় বড় কথা বলেছেন, একবার নিজের দিকে তাকিয়ে লজ্জাবোধও করেননি। মানুষের নেতা হয়ে মন্ত্রী-এমপি, এরা কি মানুষ? দুঃখিনী বাংলার নেতা বঙ্গবন্ধুর গরিবের দল আওয়ামী লীগে এসে বর্গীর মতো লুট করে নিয়েছে জনগণের সম্পদ। আমাদের রাজনৈতিক পূর্বসূরিদের মান-মর্যাদা ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া এসব মন্ত্রী-এমপি যাদের পাঁচ বছরের সম্পদের পরিমাণ হয়ে যায় পাহাড়সমান, তাদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত এখন সময়ের দাবি। গোটা দেশ যখন পদ্মা সেতুর দিকে তাকিয়ে ছিল, তখন এরা সারা দেশ লুটে নিয়ে গেছে। পাঁচ বছর যারা এমপি-মন্ত্রী ছিলেন বা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্য ছিলেন, তাদের সম্পদ শনৈঃ শনৈঃ বেড়েছে। অন্যদিকে, চড়া ব্যাংক ঋণ সুদের আর দেনার দায়ে কত কল কারখানা বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাতাসে দুর্গন্ধের মতো দুর্নীতিবাজদের নাম দেশজুড়ে সমালোচিত হয়েছে। তবু প্রধানমন্ত্রীর চোখ খোলেনি!

৬. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতির দুর্গম পথে কত কষ্ট-নির্যাতন সয়েছেন লাখো লাখো নেতা-কর্মী নিয়ে। এ দলটির হাজার হাজার নেতা-কর্মী পঁচাত্তরের পরে বছরের পর বছর জেলা, জুলুম, নির্যাতন সয়েছেন। পুলিশ আর প্রতিপক্ষের আঘাতের চিহ্ন এখনো শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। অথচ এই দলের মন্ত্রী-এমপি হয়ে শুধু তাদের সঙ্গেই নয়, দেশ ও মানুষের সঙ্গেই নয়, জাতির মহত্তম নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বিশ্বনন্দিত জাতীয়তাবাদী নেতা বঙ্গবন্ধু পরিবার-পরিজনসহ জীবন দিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনের অর্ধেক জেল খেটেছেন। তাকে হত্যার পর তিনি বা তার পরিবারের কারও নামে গোপন বা প্রকাশ্যে কোনো টাকা-পয়সা-সম্পদ পাওয়া যায়নি। অথচ সেই মহান নেতার নাম নিয়ে একালের মন্ত্রী-এমপিদের অনেকে কী নির্লজ্জভাবে দিনদুপুরে কমিশনের বিনিময়ে ফাইল ছেড়েছেন। কাবিটা মানে খাও, টিআর মানে খাও, কাবিখা মানে খাও, কর্মসৃজন মানে খাও, এতিমের তহবিল খাও, ত্রাণের গম, চাল, টিন সব খাও, খেয়ে খেয়ে নাদুসনুদুস হও নীতিতে পথ হেঁটেছেন। এদের প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা বড়মুখ করে বলেছিলেন, আমার মন্ত্রীরা স্মার্ট না হলেও সৎ। পাঁচ বছরের মাথায় তারাই হলফনামায় স্বাক্ষর করে বলেছেন, আমরা স্মার্ট নই, সৎও নই। তারা তাদের নেত্রীর সঙ্গেও বেইমানি করেছেন। যে আওয়ামী লীগ খেয়ে না খেয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই দলের আত্দদানকারী শহীদদের সঙ্গে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্লজ্জ বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এই বিশ্বাসঘাতকদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, রাজস্ব বোর্ড খতিয়ে দেখবে। লোক হাসানো শব্দ উপহারে দেশ চালানো অর্থমন্ত্রীর সততা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও তার যোগ্যতা এবং দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মরহুম অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ও শাহ এ এম এস কিবরিয়ার কাছে তিনি রূপ-রস-ঘ্রাণহীন অর্থমন্ত্রী মাত্র। শেয়ার কেলেঙ্কারির পর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে তার বক্তব্য আর পরবর্তী নীরবতা মানুষকে হতাশ করেছে। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল লজ্জা-শরমের নেকাব খুলে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে হলফনামা প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশ ভুলে গেছেন একতরফা নির্বাচনের কারিগর সিইসি রকিবউদ্দীন। বলেছেন, বিবেচনা করবেন। এমন সিইসি সামরিক শাসকরাও পাননি। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনাকেই পাঁচ বছরে যারা অনৈতিকভাবে সম্পদ বাড়িয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

৭. বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া গতকালের সংবাদ সম্মেলনে যে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন, তা দেশের মানুষ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তার থিঙ্কট্যাঙ্কে কাজ করা সেই দলকানা সম্পাদক যাকে বিএনপি সরকার তেজগাঁওয়ে জায়গা দিয়েছিল, যাকে সাংবাদিকরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বিমান থেকে নামিয়ে এনেছিলেন, তার হাতের ছোঁয়া পাওয়া গেছে। জ্ঞানপাপীদের ড্রাফটখানি ছিল চমৎকার। খালেদা জিয়ার অনেক বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত। অনেক বক্তব্যের সঙ্গে নই। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু যথার্থই বলেছেন, নাশকতায় নিহতদের জন্য তিনি যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তাতে বুঝতে পেরেছেন সহিংস কর্মসূচি ভুল। আমির হোসেন আমু আরেকটি কথা বলেছেন, পাকিস্তান পার্লামেন্টের নিন্দা প্রস্তাবের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা মর্মাহত বলেছেন, নিন্দা জানাননি। এ ব্যাপারে একমত। বিরোধীদলীয় নেতা অনেক দেরিতে হিসাব কষে একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তান ও তার এ-দেশীয় দোসরদের খুশি করতে এবং প্রতিবাদমুখর জনগণকে তৃপ্ত করতে দুই কূল রক্ষায় ‘মর্মাহত’ বললেও নিন্দা জানাননি এবং প্রতিবাদের সঙ্গে তা প্রত্যাহারের দাবি জানাননি। মফস্বলের মানুষ বলাবলি করছে, ট্রেনযাত্রী, বাসযাত্রী এমনকি পথচারী থেকে ট্রাকে আনা গরুগুলোকে পেট্রলবোমায় ঝলসে দিয়ে এ কোন পাশবিক আন্দোলন করছে বিরোধী দল। সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক ও যাত্রীরা কি তত্ত্বাবধায়ক দেবে? নাকি নির্বোধ গরুরা বিরোধী দলের দাবি পূরণ করবে যে তাদের হত্যা করা হচ্ছে? প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক যথার্থই বলেছেন, আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের কাছে যেমন একতরফা চলমান নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি বিরোধী দলের ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’ সরকার হতে দেবে না। তিনি আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ে দেখলাম বিএনপি নেতারা ভোটের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও ভালো করত। গণরায় ছিনতাই হলে তখন গণঅভ্যুত্থানে যেতে পারত। নির্বাচন হতে পারত, আন্দোলনের চূড়ান্ত সিঁড়িপথ। জামায়াত আর বিএনপির মুরবি্বরা দলটিকে মধ্যপন্থি নীতি থেকে ডানে সরাতে সরাতে সিঁড়ি দেখতে দেয়নি।

মানুষ মনে করে, দেশ এভাবে চলতে পারে না। মানুষ ভাবছে, এ নির্বাচন বিতর্কের বস্তা কাঁধে নিয়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় হয়ে গেলেও তারপর দুই পক্ষের আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে আগামীতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক।

সূত্রঃ বংলাদেশ প্রতিদিন

৪ বছর ধরে মাথায় ৪০ কেজি পাথর নিয়ে হাঁটছে লোকটি, জানেন কেন?




ছবিতে যে লোকটিকে দেখতে পাচ্ছেন মাথায় পাথর নিয়ে হাঁটছেন, তার নাম কং ইয়ান। তিনি একজন চীনা নাগরিক। বর্তমানে তার বয়স ৫৪ বছর। ভাবছেন এই পাথরটা মাথায় নিয়ে তিনি এভাবে হাঁটছেন কেন?

এমন প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক। তবে মূল ঘটনা বলার আগে এটুকু বলি, তিনি এই কাজটি করছেন গত ৪ বছর যাবৎ। এবং তা তিনি করছেন প্রতিদিনই। আর তার মাথার উপর যে পাথরটা দেখতে পাচ্ছেন, সেটির ওজন ৪০ কেজি।

এখন আসি আসল কথায়। মানুষ শরীরকে ফিট রাখতে তো কত কিছুই করে থাকেন। তবে আর যা-ই করুন অন্তত মাথায় এভাবে ৪০ কেজি ওজনের পাথর নিয়ে তো আর হাঁটেন না। হ্যাঁ হাঁটেন না ঠিক।


  
কিন্তু কং ইয়ান এর থেকে ব্যতিক্রম। তিনি শরীরটাকে ফিট রাখার জন্য এই কাজটাকেই বেছে নিয়েছেন। আর না নিয়েও উপায় ছিল না। কারণ, তার শরীরের ওজন এতটা বৃদ্ধি পাচ্ছিল যে, এটা করাই তার কাছে শ্রেয় মনে হয়েছে।

কং ইয়ান যখন এই কাজটি প্রথম শুরু করেন, তখন তার শরীরের ওজন ছিল ১১৫ কেজি। বুঝতেই পারছেন, এত ওজনের একটা মানুষের কতটা সমস্যা হতে পারে? তাই বলে এই পদ্ধতি গ্রহণ করবেন? কি আর করার। ওজন কমানোর প্রচলিত যে পদ্ধতি রয়েছে, তা কং ইয়ানের মোটেও পছন্দ ছিল না। আর তাই তো মাথায় ৪০ কেজি ওজনের পাথর নিয়ে তিনি হাঁটা শুরু করেন। তার এই তীর্তি দেখে রাস্তার মানুষ তো অবাক! তাতে কি? তিনি দমে যাবার পাত্র নয়।

ব্যস, এর পর থেকে কং ইয়ান প্রতিদিনই মাথার ওপার এই ৪০ কেজি ওজনের পাথর নিয়ে রোজই রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করেন। তবে তার হাঁটার শুরুটা কিন্তু ৪০ কেজি পাথর দিয়ে নয়। তখন তিনি শুরু করেছিলেন ১৫ কেজি ওজনের একটি পাথর নিয়ে। যা গত চার বছরে বেড়ে ৪০ কেজি হয়েছে।

কং ইয়ান জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে তিনি বছরে ১২ কেজি করে ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন। চীনের স্থানীয় পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে, কং ইয়ান উত্তরপূর্বাঞ্চলের চীনা শহর জিলিনের রাস্তায় সিমেন্টের পাথর মাথায় নিয়ে প্রতিদিন দেড় মাইল হাঁটেন।