সর্বশেষ পোস্ট

Post Top Ad

Your Ad Spot

Monday, 5 December 2016

ইস যদি মন্ত্রী-এমপি হইতাম!

পীর হাবিবুর রহমান

১. নির্বাচনী হলফনামায় পাঁচ বছরের মন্ত্রী-এমপিরা সম্পদের যে বিবরণ দিয়েছেন, তা দেখে বিদ্রূপ করে এখন অনেকেই বলছেন, ইস যদি মন্ত্রী-এমপি হইতাম, পাঁচ বছরে এমন কামাই করতাম চৌদ্দপুরুষ বসে বসে রাজার মতো খেত।

এ লেখাটি যখন লিখছি তখন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন শেষ করেছেন। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের ওপর দেশবরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আমির হোসেন আমুর প্রতিক্রিয়া শেষ হয়েছে।

২. কয়েক দিন ধরে উত্তর-পূর্বের সীমান্ত শহর সুরমা-হাওর বিধৌত বাউল গানের তীর্থভূমি সুনামগঞ্জ শহরে রয়েছি। সুনামগঞ্জের বাড়িতে অনেকেই খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য এবং নানা মহলের প্রতিক্রিয়া টেলিভিশনে আমার সঙ্গে দেখেছেন। কয়েক দিন ধরে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের বিবরণী পত্রপত্রিকায় আসায় মফস্বল শহরের রাজনৈতিক সচেতন মানুষের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে হাট-বাজারে, পথে-ঘাটে, চায়ের স্টলের আড্ডায়। বাসাবাড়ির বৈঠকখানায় বিরোধী দলের সর্বশেষ অবরোধ কর্মসূচি এসব আলোচনায় কোনো ঠাঁই পায়নি। আলোচনা থেকে তলিয়ে গেছে সিএমএইচে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের ভর্তি ও জাতীয় পার্টির ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইস্যুটি। মজলিসি আড্ডায়, চায়ের টেবিলের আলোচনায় ঝড় তুলেছে মন্ত্রী-এমপিদের পাঁচ বছরে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের পর পাকিস্তান পার্লামেন্টে গৃহীত নিন্দা প্রস্তাব। সেই সঙ্গে প্রহসনের নির্বাচনের অতীত ইতিহাসকে হার মানিয়ে নজিরবিহীন রেকর্ড গড়ার ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন। এরই মধ্যে উঁকি দিচ্ছে

৫ জানুয়ারির পর নাকি সরকার বিরোধী দলের আন্দোলন ঠেকাতে মার্চ-এপ্রিলে উপজেলা নির্বাচন দিতে যাচ্ছে_ এমন একটি খবর। অনেকে উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। সুনামগঞ্জ বিএনপি ত্রিধারায় বিভক্ত। ফটোসেশনের আন্দোলন চলছে এখানে। কর্মসূচিতে তিন গ্রুপেই নেতা-কর্মীরা নামছেন। সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারায় শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি পাশাপাশিই হাঁটছে। রাজনৈতিক সংঘাত এখানে নেই। কিছু কিছু সন্ত্রাসীর আর কিছু সরকারি ছায়ায় লুটেরা নাম উচ্চারিত হচ্ছে মানুষের মুখে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইয়ামিন চৌধুরীকে নিয়ে শহরজুড়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও পুলিশ সুপার নজরুল হোসেনের ব্যাপারে নাগরিক মনোভাব ইতিবাচক। যাক এ প্রসঙ্গ আলাদা।

৩. বর্ষায় সুনামগঞ্জ যৌবন ফিরে পায়। শহরের চারদিকে অথৈ জলরাশি, আফালের ধাপাধাপি আর সুরমার উত্তাল সে াত দেখা যায়। এখন শীতে মরা কঙ্কাল। হাওর শুকিয়ে মাঠ। হাওরগুলোয় মাছ ধরার মৌসুম শুরু হয়েছে। শহরের পাড়ায় পড়ায় সকাল-সন্ধ্যা হরেকরকম তাজা মাছ, টাটকা সবজির ঢালা নিয়ে বসেছে বিক্রেতারা। দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। পৌর মেয়র আইয়ূব বখত জগলুল ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। সড়কগুলো সড়ক দুর্ঘটনায় অকালমৃত পৌর মেয়র মমিনুল মউজদীনের পর এবারের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। সড়কগুলো বড়সড় হচ্ছে। সংস্কার প্রশ্নে কিছু কিছু সাহসী সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন। উকিলপাড়াসংলগ্ন সুরমাপাড়ে মানুষের সান্ধ্যকালীন বিনোদনে রিভারভিউ মিনি পার্ক করেছেন। শানে বাঁধা দীর্ঘ ঘাট শহরবাসীর জন্য বসার স্থায়ী চেয়ার, আলোকসজ্জা প্রশংসিত। জায়গা পাননি বলে শহরবাসীর প্রত্যাশিত অডিটরিয়াম এখনো করতে পারেননি। আরপিননগর ঈদগাহ ইসলামী স্থাপত্যশৈলীতে নতুন রূপে নির্মিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের দুটিতেই আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং সদরে জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনএফের প্রার্থী থাকলেও তেমন প্রচারণায় নেই আওয়ামী লীগের মুহিবুর রহমান মানিক। তবে সুনামগঞ্জ-১ এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনে নৌকা এখন ডুবুডুবু করছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে অবতীর্ণ দুই প্রার্থী ফুটবল নিয়ে ভোটযুদ্ধ জমিয়ে দিয়েছেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনে পাঁচ বছরে দুর্নীতির বরপুত্র বলে আলোচিত মোয়াজ্জেম হোসেন রতন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ রফিকুল হকের সঙ্গে। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগে প্রার্থী এম এ মান্নানের ঘাম ঝরাচ্ছেন নিজ দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি মরহুম আবদুস সামাদ আজাদপুত্র আজিজুস সামাদ ডন।

৪. দেখার হাওরের বড়দৈ বিলে এক রাত ছিলাম। শহরের একঝাঁক দলনিরপেক্ষ তরুণ রাজনীতিক সুবিধাভোগীদের থাবা থেকে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে বড়দৈ বিলটি ইজারা নিয়ে আছেন দীর্ঘ দিন থেকে। এই তরুণদের মধ্যে সৈয়দ মনোয়ার, মোজ্জামেল হক মুনিম, হাজী হেলাল, সালাদীনরা পরিবেশ বান্ধব-বান্ধবী নন আশপাশের গ্রামবাসীদেরও সুখী রেখে এই বিলে মাছ চাষ ও আহরণ করেন। সৈয়দ মনোয়ারের রক্ত বিলের নেশা।

৫. যাক, যেখানেই আড্ডায় গেছি, মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদ বৃদ্ধির অবিশ্বাস্য খতিয়ান দেখে সবাই বলাবলি করছেন, এসব লোক রাজনীতিতে এসে আমাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে, মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করে শেষ তলানিতে নিয়ে গেছেন। বিদ্রূপ, ঠাট্টা, রসিকতায় অনেকেই বলছেন, ইস, একবার মন্ত্রী-এমপি হলে কত বিত্তবৈভব আর বিলাসিতার জীবনই না পাওয়া যায়। ২০০১ সালের ক্ষমতায় আসা বিএনপিকে দুর্নীতির বরপুত্ররা টাইটানিকের মতো ডুবিয়েছিল। জনবিচ্ছিন্ন করেছিল। এবার সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে পাঁচ বছরে তাদের বিত্ত-বেসাত আর অর্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার চিত্র দেখে রাগে-ক্ষোভে মানুষের বলাটাই স্বাভাবিক, এই তথ্যের বেনামি আড়ালে কী না রয়েছে? নিজেরা যা স্বীকার করেছেন, তা সন্দেহজনকই নয়, প্রশ্নবিদ্ধও। প্রশ্ন আসতেই পারে শাসক জোটের প্রতি, এই কি তবে দিন বদলের পরিণতি?

পাঁচ বছরে সম্পদের পরিমাণ কারও কারও বেড়েছে এক শ গুণ! পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান পাঁচ বছরে ২০ একর জমি প্রায় ৩ হাজার একরে নিয়ে গেছেন। বার্ষিক আয় বাড়িয়েছেন ৭৮ গুণ। পাঁচ বছর আগে যার ব্যাংকে ছিল ৮৩ হাজার ১১২ টাকা, পাঁচ বছরে এত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের খরচের পর জমা আছে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮২ টাকা। পাঁচ বছর আগে পূর্ত প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানের আয় ছিল ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা, নির্ভরশীলদের কোনো আয়ই ছিল না। পাঁচ বছর পর তিনি ও তার স্ত্রী এবং অন্য নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় হয়ে গেছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। পাঁচ বছর আগে তার সম্পদ ছিল ১০ লাখ টাকার। পাঁচ বছরে তা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি টাকায়।

নষ্ট কমিউনিস্ট মান্নান খানের যদি এ অবস্থা হয়, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের মতো হাফ মন্ত্রীর যদি এত বিত্তবৈভব হয় তখন বাংলাদেশের কারাগারে বন্দী গ্রামের সিঁদেল চোর থেকে রাজধানীর গ্রিল কাটা ডাকাত কিংবা মহল্লার চাঁদাবাজরা আফসোস করে বলতেই পারে- যদি মন্ত্রী-এমপি হতাম, শুধু ক্ষমতাই নয়, পুলিশের স্যালুটই নয়, দামি কাপড়চোপড়ই নয়, বিলাসী জীবনযাপনই নয়, আরাম-আয়েশে বাকিটা জীবন কাটিয়ে দিতাম। এই মান্নান খান সেদিন মহান সংসদে দাঁড়িয়ে যখন বড় বড় কথা বলেছেন, একবার নিজের দিকে তাকিয়ে লজ্জাবোধও করেননি। মানুষের নেতা হয়ে মন্ত্রী-এমপি, এরা কি মানুষ? দুঃখিনী বাংলার নেতা বঙ্গবন্ধুর গরিবের দল আওয়ামী লীগে এসে বর্গীর মতো লুট করে নিয়েছে জনগণের সম্পদ। আমাদের রাজনৈতিক পূর্বসূরিদের মান-মর্যাদা ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া এসব মন্ত্রী-এমপি যাদের পাঁচ বছরের সম্পদের পরিমাণ হয়ে যায় পাহাড়সমান, তাদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত এখন সময়ের দাবি। গোটা দেশ যখন পদ্মা সেতুর দিকে তাকিয়ে ছিল, তখন এরা সারা দেশ লুটে নিয়ে গেছে। পাঁচ বছর যারা এমপি-মন্ত্রী ছিলেন বা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্য ছিলেন, তাদের সম্পদ শনৈঃ শনৈঃ বেড়েছে। অন্যদিকে, চড়া ব্যাংক ঋণ সুদের আর দেনার দায়ে কত কল কারখানা বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাতাসে দুর্গন্ধের মতো দুর্নীতিবাজদের নাম দেশজুড়ে সমালোচিত হয়েছে। তবু প্রধানমন্ত্রীর চোখ খোলেনি!

৬. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতির দুর্গম পথে কত কষ্ট-নির্যাতন সয়েছেন লাখো লাখো নেতা-কর্মী নিয়ে। এ দলটির হাজার হাজার নেতা-কর্মী পঁচাত্তরের পরে বছরের পর বছর জেলা, জুলুম, নির্যাতন সয়েছেন। পুলিশ আর প্রতিপক্ষের আঘাতের চিহ্ন এখনো শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। অথচ এই দলের মন্ত্রী-এমপি হয়ে শুধু তাদের সঙ্গেই নয়, দেশ ও মানুষের সঙ্গেই নয়, জাতির মহত্তম নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বিশ্বনন্দিত জাতীয়তাবাদী নেতা বঙ্গবন্ধু পরিবার-পরিজনসহ জীবন দিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনের অর্ধেক জেল খেটেছেন। তাকে হত্যার পর তিনি বা তার পরিবারের কারও নামে গোপন বা প্রকাশ্যে কোনো টাকা-পয়সা-সম্পদ পাওয়া যায়নি। অথচ সেই মহান নেতার নাম নিয়ে একালের মন্ত্রী-এমপিদের অনেকে কী নির্লজ্জভাবে দিনদুপুরে কমিশনের বিনিময়ে ফাইল ছেড়েছেন। কাবিটা মানে খাও, টিআর মানে খাও, কাবিখা মানে খাও, কর্মসৃজন মানে খাও, এতিমের তহবিল খাও, ত্রাণের গম, চাল, টিন সব খাও, খেয়ে খেয়ে নাদুসনুদুস হও নীতিতে পথ হেঁটেছেন। এদের প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা বড়মুখ করে বলেছিলেন, আমার মন্ত্রীরা স্মার্ট না হলেও সৎ। পাঁচ বছরের মাথায় তারাই হলফনামায় স্বাক্ষর করে বলেছেন, আমরা স্মার্ট নই, সৎও নই। তারা তাদের নেত্রীর সঙ্গেও বেইমানি করেছেন। যে আওয়ামী লীগ খেয়ে না খেয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই দলের আত্দদানকারী শহীদদের সঙ্গে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্লজ্জ বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এই বিশ্বাসঘাতকদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, রাজস্ব বোর্ড খতিয়ে দেখবে। লোক হাসানো শব্দ উপহারে দেশ চালানো অর্থমন্ত্রীর সততা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও তার যোগ্যতা এবং দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মরহুম অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ও শাহ এ এম এস কিবরিয়ার কাছে তিনি রূপ-রস-ঘ্রাণহীন অর্থমন্ত্রী মাত্র। শেয়ার কেলেঙ্কারির পর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে তার বক্তব্য আর পরবর্তী নীরবতা মানুষকে হতাশ করেছে। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল লজ্জা-শরমের নেকাব খুলে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে হলফনামা প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশ ভুলে গেছেন একতরফা নির্বাচনের কারিগর সিইসি রকিবউদ্দীন। বলেছেন, বিবেচনা করবেন। এমন সিইসি সামরিক শাসকরাও পাননি। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনাকেই পাঁচ বছরে যারা অনৈতিকভাবে সম্পদ বাড়িয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

৭. বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া গতকালের সংবাদ সম্মেলনে যে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন, তা দেশের মানুষ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তার থিঙ্কট্যাঙ্কে কাজ করা সেই দলকানা সম্পাদক যাকে বিএনপি সরকার তেজগাঁওয়ে জায়গা দিয়েছিল, যাকে সাংবাদিকরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বিমান থেকে নামিয়ে এনেছিলেন, তার হাতের ছোঁয়া পাওয়া গেছে। জ্ঞানপাপীদের ড্রাফটখানি ছিল চমৎকার। খালেদা জিয়ার অনেক বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত। অনেক বক্তব্যের সঙ্গে নই। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু যথার্থই বলেছেন, নাশকতায় নিহতদের জন্য তিনি যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তাতে বুঝতে পেরেছেন সহিংস কর্মসূচি ভুল। আমির হোসেন আমু আরেকটি কথা বলেছেন, পাকিস্তান পার্লামেন্টের নিন্দা প্রস্তাবের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা মর্মাহত বলেছেন, নিন্দা জানাননি। এ ব্যাপারে একমত। বিরোধীদলীয় নেতা অনেক দেরিতে হিসাব কষে একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তান ও তার এ-দেশীয় দোসরদের খুশি করতে এবং প্রতিবাদমুখর জনগণকে তৃপ্ত করতে দুই কূল রক্ষায় ‘মর্মাহত’ বললেও নিন্দা জানাননি এবং প্রতিবাদের সঙ্গে তা প্রত্যাহারের দাবি জানাননি। মফস্বলের মানুষ বলাবলি করছে, ট্রেনযাত্রী, বাসযাত্রী এমনকি পথচারী থেকে ট্রাকে আনা গরুগুলোকে পেট্রলবোমায় ঝলসে দিয়ে এ কোন পাশবিক আন্দোলন করছে বিরোধী দল। সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক ও যাত্রীরা কি তত্ত্বাবধায়ক দেবে? নাকি নির্বোধ গরুরা বিরোধী দলের দাবি পূরণ করবে যে তাদের হত্যা করা হচ্ছে? প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক যথার্থই বলেছেন, আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের কাছে যেমন একতরফা চলমান নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি বিরোধী দলের ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’ সরকার হতে দেবে না। তিনি আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ে দেখলাম বিএনপি নেতারা ভোটের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও ভালো করত। গণরায় ছিনতাই হলে তখন গণঅভ্যুত্থানে যেতে পারত। নির্বাচন হতে পারত, আন্দোলনের চূড়ান্ত সিঁড়িপথ। জামায়াত আর বিএনপির মুরবি্বরা দলটিকে মধ্যপন্থি নীতি থেকে ডানে সরাতে সরাতে সিঁড়ি দেখতে দেয়নি।

মানুষ মনে করে, দেশ এভাবে চলতে পারে না। মানুষ ভাবছে, এ নির্বাচন বিতর্কের বস্তা কাঁধে নিয়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় হয়ে গেলেও তারপর দুই পক্ষের আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে আগামীতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক।

সূত্রঃ বংলাদেশ প্রতিদিন

No comments:

Post Top Ad

Your Ad Spot